টানা ৮ দিন অবস্থান কর্মসূচিতে বেসরকারি শিক্ষকরা

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। বিভিন্ন জেলার ব্যানারে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন তারা।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু করার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি তাদের। শিক্ষক নেতারা বলছেন, আজকের কর্মসূচিতেও লাখের বেশি শিক্ষক অংশ নেবেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বরিশালের নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সিলেবাস একই। ক্লাস-পরীক্ষা কারিকুলামও এক। অথচ বেতন-ভাতার হিসাবে বৈষম্য। আমরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরবো না।

বগুড়ার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. তরিকুল আলম বলেন, জাতীয়করণ হলে সরকারের কোনো বাড়তি খরচ হবে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের আয় যা হবে, তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সেটা দিয়েই আমাদের বেতন বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য কমানোর দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে গত ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকরা।

সোমবার (১৭ জুলাই) সকালে পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্ট মোড় রাস্তা অবরোধ করেন তারা। বিকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক নেহাল আহমেদের আহ্বানে বৈঠকে অংশ নিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক প্রতিনিধিদের পাঁচ সদস্যের একটি দল মাউশিতে যান। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত বৈঠক হয়। তবে বৈঠকের পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।

বৈঠক শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি বজলুর রহমান মিয়া জানান, মাউশি ডিজিসহ অন্যরা আমাদের জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিব অসুস্থ। তবে মাউশির পক্ষ থেকে আমাদের দাবির বিষয়টি মন্ত্রীকে জানানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। যেহেতু আমরা সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি, তাই আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অন্যদিকে, মাউশির ডিজি অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ডেকে তাদের দাবির বিষয়টি শুনেছি। এ দাবির বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবো। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *