মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

৮৮৯ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা।

শনিবার মধ্যরাতে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচিত টেকনোলজিস্টদের চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেডিক্যাল টেকনিশয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশকৃত প্রার্থীদের রোল নম্বর প্রকাশ করা হলো। যোগদানের তারিখ ও অন্যান্য নির্দেশাবলি শিগগিরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশকৃত প্রার্থীর দাখিলকৃত কোনো তথ্য ও সনদ যে কোনো পর্যায়ে ভুল বা জাল প্রমাণিত হলে অথবা তাহার বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ বাতিলের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।’

চিকিৎসার পূর্বশর্ত রোগ নির্ণয় করা আর এ কাজটি করে থাকেন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা। দীর্ঘ ১৪ বছর তাদের কোনো নিয়োগ হয়নি। করোনা মহামারি দেখা দিলে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকটের বিষয়টি সবার সামনে আসে। কিন্তু সেসময় একাধিকবার চিকিৎসক নার্স নিয়োগ হলেও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। করোনার সময়ে সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ হাজার ২০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ সৃষ্টি হয়। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা এবং পরের বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়। তবে সেসময় পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় নিয়োগটি বাতিল হয়।

এরপর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ মার্চ পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়। সেই বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক গত ৬ মে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এতে আবেদন করেন ২৯ হাজার ১৮০ জন। গত ৫ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪ হাজার ১৯০ জন। অবশেষে গত ২২ জুলাই মধ্যরাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ৮৮৯ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুতই পদায়নের তারিখ জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্টদের নিয়োগের বিষয়টি অবশেষে ৩ বছর পর আলোর মুখ দেখল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *